দেশের হাওরাঞ্চলে এখন চলছে বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা। কোথাও ধান কাটা, কোথাও মাড়াই, আবার কোথাও খলা তৈরির কাজ চলছে। তবে বেশিরভাগ হাওরে এখনো ধান পুরোপুরি পাকেনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করেই চলছে কৃষকের জীবন। এবার বৈশাখে কৃষকের আনন্দের চেয়ে উদ্বেগই বেশি। অনাবৃষ্টি, পরবর্তী সময়ে অসময়ে অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার কারণে ফসল তোলার কাজ ব্যাহত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজেল সংকট, ফলে হারভেস্টার মেশিন চালাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এদিকে প্রশাসন সুনামগঞ্জের কিছু এলাকায় বালি ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করে শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে নামানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বড়ছড়া, বাগলী ও চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে শ্রমিকদের মাঠে নামানো হচ্ছে। তবে নতুন করে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে বজ্রপাত। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সিলেট অঞ্চল ও হাওর এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে সুনামগঞ্জ-এর বিভিন্ন হাওরে বজ্রপাতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ধান কাটার সময় মাঠে থাকা কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের মতে, হাওরে খোলা মাঠে কাজ করার কারণে নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় বজ্রপাতের সময় প্রাণহানি বাড়ছে। গবাদিপশুর মৃত্যুও ঘটছে, এতে কৃষকের ক্ষতি আরও বাড়ছে। গবেষণা অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে হাওর অঞ্চলে বজ্রপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবী মানুষই বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা পান না। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করলেও ক্ষতিপূরণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তালগাছ রোপণ ও বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চ থেকে মে মাসে ভারতীয় মেঘালয় অঞ্চলের আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে হাওরের কৃষিকাজ এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এখন কৃষকের প্রধান উদ্বেগ—প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলা যাবে কি না।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন