ঢাকায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পার হলেও এখনো প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হয়নি। একাধিক তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের পর সর্বশেষ দায়িত্ব পাওয়া টাস্কফোর্সও ১৭ মাসের তদন্তে কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। রোববার (২৬ এপ্রিল) তৃতীয় দফায় সময় বৃদ্ধির আবেদন করলে বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ তদন্ত কার্যক্রমে আরও ৬ মাস সময় মঞ্জুর করেন।
টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মোটিভ বা জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলার রহস্য উদঘাটনে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনার সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশ মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তবে তারা বর্তমানে সহজলভ্য না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, পূর্ববর্তী তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় টাস্কফোর্স কার্যকর অগ্রগতি করতে পারছে না। তাই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির বলেন, এত বছরেও হত্যাকাণ্ডের কোনো কূলকিনারা হয়নি, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার ব্যর্থতাকে নির্দেশ করে। তার মতে, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। পরদিন তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাবসহ একাধিক সংস্থা তদন্ত করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে তিন পুরুষ ও এক নারীর ডিএনএ পাওয়া গেলেও বারবার পরীক্ষার পরও দুই অজ্ঞাত পুরুষের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফলে দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের কোনো সমাধান না হওয়ায় জনমনে হতাশা ও প্রশ্ন আরও গভীর হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন