পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া। এ ধরনের প্রকল্পে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ‘ফুয়েল লোডিং’ বা জ্বালানি স্থাপনের কমিশনিং লাইসেন্স প্রাপ্তিকে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাইসেন্সের অর্থ হলো রিঅ্যাক্টরে পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পূর্ববর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম এই ধাপকে ‘পাইলট অপারেশন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের পর প্রায় ছয় মাস থেকে এক বছর ধরে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়, যেখানে টারবাইন, জেনারেটর, পাওয়ার সিঙ্ক্রোনাইজেশন এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না তা যাচাই করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মূলত নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় কাজ করে। ইউরেনিয়াম নিউক্লিয়াস বিভাজনের মাধ্যমে উৎপন্ন তাপশক্তি ব্যবহার করে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
এই ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো হয় এবং পরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি পরিবর্তন করতে হয়। বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্নি নিরাপত্তা, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।
পারমাণবিক শক্তি কমিশন জানিয়েছে, লাইসেন্স পাওয়ার আগে সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, আইএইএ-এর নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করেই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন