মুক্তিযুদ্ধের পর ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট দেখে নিজের মুক্তিযোদ্ধার সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে কোনো প্রাপ্তির আশা করেননি তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ভুয়া সনদের অপব্যবহার দেখে তিনি মর্মাহত হন। এক শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়, অথচ তার পরিবারের অতীত ছিল বিতর্কিত—এমন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, সেই ঘটনার পরই তিনি ঘৃণাভরে নিজের সনদ ছিঁড়ে ফেলেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়, বরং দেশের স্বাধীনতার জন্য। তাই যুদ্ধের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা তার ছিল না। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় রমনার বটমূলে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং সেই ঘটনার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে এখনও বেঁচে আছেন। শহীদ জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যেই দলটির ঘোষণা দেন—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুত এ আন্দোলনে নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেয়। তিনি দাবি করেন, এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়; বরং বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের সম্মিলিত ত্যাগের ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সংসদের ভেতরে ও বাইরে বহু মানুষ সংগ্রাম করেছেন, যাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন