নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে গত দুই দিন হালকা রোদ থাকলেও কৃষকেরা কষ্টের ধান শুকাতে পারছেন না। জেলার পাঁচটি হাওর উপজেলায় এখনো প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বোরো ফসল পানির নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃষ্টি না হলেও হাওরের চারপাশে ফসল রক্ষা বাঁধ থাকায় পানি আটকে গেছে, ফলে স্বাভাবিকভাবে পানি নামছে না। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানো ছাড়া দ্রুত নিষ্কাশনের কোনো বিকল্প নেই। এদিকে যেসব এলাকায় আংশিকভাবে ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, সেখানে কৃষকেরা ভেজা ধান শুকিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন। তবে পানির কারণে পুরোপুরি ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৭২ শতাংশ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিৎপুর হাওরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমি এখনো পানির নিচে ডুবে আছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, সময়মতো পানি না নামায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় আছেন। কৃষক আসলাম মিয়া বলেন, কয়েক বছর পরপর হাওরে পানি এলেও এবারের পরিস্থিতি তারা আগে থেকে বুঝতে পারেননি। অনেকেই দেরিতে ধান রোপণ করেছিলেন, ফলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ধীরে ধীরে পানি নামবে এবং কিছু ফসল উদ্ধার করা সম্ভব হবে। তবে অন্তত ১০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৫টি হাওর উপজেলায় মোট ৪১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। তবে বর্তমানে পানি নিষ্কাশন ও ধান কাটা দুটোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অন্যদিকে কৃষকরা অভিযোগ করছেন, বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না এবং এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে কম দামে ধান কিনছে।এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানান, কৃষকেরা ইচ্ছামতো সময় ধরে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারবেন এবং এ বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন