ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় দিবস উপলক্ষে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হচ্ছে। আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ৯, ১০ ও ১১ মে—এই তিন দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
ট্রাম্প বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি হবে।” এরপরই ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সমঝোতা হয়। একই সময় মার্কিন প্রতিনিধিরা কিয়েভের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন ও ট্রাম্পের ফোনালাপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুই দেশের মিত্রতার বিষয় এবং রাশিয়ার ‘ভিক্টরি ডে’ উদযাপন ঘিরে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এর আগে রাশিয়া ৯ মে উপলক্ষে দুই দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও ইউক্রেন দাবি করেছিল, তারা আগেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু মস্কো সেটি গুরুত্ব দেয়নি।
ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ তিনি নিজেই করেছিলেন। পাশাপাশি যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে দুই দেশ এক হাজার করে বন্দি মুক্তি দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জেলেনস্কিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিদিনই সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হচ্ছে। তার আশা, এই উদ্যোগ দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী যুদ্ধের অবসানের পথ তৈরি করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখনো বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ে, যার বড় অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মস্কো চায় ইউক্রেন অবশিষ্ট অংশ থেকেও সেনা সরিয়ে নিক, তবে কিয়েভ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। জেলেনস্কি বরাবরই বলে আসছেন, শান্তিচুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছাড়বে না।
এদিকে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য মিয়ামি পৌঁছেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন