ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :
'আমিই বস' ট্রাম্পের মুখে এমন কথা শুনেই হাসির রোল পড়ল বিশ্বনেতাদের মাঝে ‘এই দলকে কেউ সহজে হারাতে পারবে না’ সময় টিভির পরিচালক আহমেদ জোবায়ের কারাগারে বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে কাজ করতে চায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে লাল-সবুজের প্রতিনিধি সঞ্জয় দেব প্রথমে মালয়েশিয়া ও পরে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বৈঠক হবে শি’র সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ’, সংসদে বিতর্ক লুকোচুরি না করে সবার মেনে নেওয়া উচিত, মেসিই সর্বকালের সেরা: রোনালদো ১ মাস পর অনুশীলনে ফিরলেন নেইমার, মাঠে নামবেন কবে প্রস্তাবিত বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই: সিপিডি

দিন দিন প্রকট হচ্ছে সৌদি-আরব আমিরাত দ্বন্দ্ব, কেন এখন এটি এতটা তীব্র হলো

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এনেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি
  • আপলোড সময় : ১০ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪০ সময়
  • আপডেট সময় : ১০ মে ২০২৬, সকাল ৯:৪০ সময়
দিন দিন প্রকট হচ্ছে সৌদি-আরব আমিরাত দ্বন্দ্ব, কেন এখন এটি এতটা তীব্র হলো

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনায় এনেছে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বকে। একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত এই দুই দেশ এখন জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে আঞ্চলিক রাজনীতির নানা ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেকে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি আরবের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতাকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করে এসেছে রিয়াদ। এমন অবস্থায় আমিরাতের ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্তকে সৌদি নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


আবুধাবি জানিয়েছে, তারা এখন প্রতিদিন অতিরিক্ত লাখ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে তেলের বাজারে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। লিবিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের মতো বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে তারা বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। এমনকি ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাতেও দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিচ্ছে আরব আমিরাত। সাম্প্রতিক হামলার পর আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেয় ইসরায়েল। একইসঙ্গে জরুরি ডলার সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে আবুধাবি। অন্যদিকে সৌদি আরব চাইছে না, প্রতিবেশী কোনো দেশ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করুক। এ কারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আমিরাতের কৌশলগত তৎপরতা রিয়াদের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের মধ্যে যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। যদিও এক দশক আগেও তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে মনে করা হতো। তবে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও দুই দেশই এখনো কৌশলগতভাবে একে অপরকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। সাম্প্রতিক ইরানি হামলার পর সৌদি যুবরাজ দ্রুত আমিরাতি নেতাকে ফোন করে সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।


তবুও বিশ্লেষকদের ধারণা, ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দুই শক্তিধর দেশের মধ্যকার মৌলিক মতবিরোধ এখনো গভীর রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে এই শীতল সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল

সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল