থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। এক বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সাজা ভোগ এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করায় তাকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। কারামুক্তির পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানান। এ সময় কারাগারের বাইরে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
থাকসিনের মুক্তিকে কেন্দ্র করে কারাগারের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় স্থানীয় প্রশাসন। লাল শার্ট পরিহিত অসংখ্য সমর্থক তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে সেখানে জড়ো হন। পরে তাকে সরাসরি রাজধানীর একটি প্রবেশন অফিসে নেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত প্যারোল কমিটির বৈঠকে থাকসিনসহ ৮৫০ জনের বেশি বন্দির আগাম মুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে তার বয়স ৭৬ বছর হওয়ায় বয়সজনিত বিবেচনাও এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
তবে প্যারোলে মুক্তি পেলেও তাকে বেশ কিছু কঠোর শর্ত মানতে হবে। সার্বক্ষণিক ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় থাকতে হবে এবং নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। এছাড়া আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তার সাজা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাইরে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত থাকসিন ২০০১ ও ২০০৫ সালে দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।
২০২৩ সালে দেশে ফেরার পর বিভিন্ন অভিযোগে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রথমে আট বছরের সাজা হলেও পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তা কমিয়ে এক বছর করা হয়। কারাগারে যাওয়ার পর অসুস্থতার কারণে তাকে পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে পরে আদালতের নির্দেশে হাসপাতালের সময় সাজার অংশ হিসেবে গণ্য না হওয়ায় তাকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়।
এদিকে প্যারোলে মুক্তি পেলেও তার বিরুদ্ধে এখনো রাজকীয় অবমাননার একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে হওয়া সেই মামলায় আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সূত্র: সিনহুয়া।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন