বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবার আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তা নাকচ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (১২ মে) জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো পর্যায়ে বিএনসিসি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা কমিশনের নেই।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনসিসি সম্প্রতি ইসির কাছে ছয় দফা প্রস্তাবসহ একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। সেখানে তারা ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটার সহায়তা ডেস্ক পরিচালনা, নারী-প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তা এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদে তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রির মতো কাজে অংশ নেওয়ার আগ্রহ জানায়। সংস্থাটির দাবি, তরুণদের সম্পৃক্ত করলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও জনআস্থা আরও বাড়বে এবং যুবসমাজের অংশগ্রহণও বৃদ্ধি পাবে।
তবে কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচনী দায়িত্বে কেবল স্বীকৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই নিয়োজিত থাকতে পারে। যেহেতু বিএনসিসি সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না, তাই তাদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ হালনাগাদ থাকায় এ ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন নেই।
এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রায় ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্যকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক আপত্তির কারণে তা সীমিত হয়ে আসে এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৪০০ সদস্যকে পোস্টাল ব্যালট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সীমিত দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনসিসিকে অন্তর্ভুক্ত না করার মাধ্যমে ইসি তাদের পূর্ববর্তী সীমিত সম্পৃক্ততার নীতিই বজায় রাখল।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন