ঢাকা | |

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের কৃষিনির্ভর পাতলী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও নাব্যতা হারানো পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ
  • আপলোড সময় : ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
  • আপডেট সময় : ১৩ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৩৯ সময়
বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন করবেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের কৃষিনির্ভর পাতলী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট ও নাব্যতা হারানো পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে খনন করা এই খালটি পুনরায় সচল করতে শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। স্থানীয়দের মতে, বহু বছর আগে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে খনন করা এই খাল এলাকার কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। খালের পানি ব্যবহার করে বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসে এবং কৃষকের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পলি জমা, দখল এবং ভরাটের কারণে খালটি কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে।


পিএমখালীর প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এটি দীর্ঘদিন এলাকার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। এখন আবার খালটির পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করাবেন। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটতে যাচ্ছে এবার।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পিএমখালী ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পুনঃখননের উদ্বোধনের পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা এবং রাতে সুধী সমাবেশেরও আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালটি খননের ফলে একসময় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা পৌঁছেছিল এবং হাজারো কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, পলি জমা এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।


এর আগেও এক দফা পুনঃখননের মাধ্যমে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন খালের প্রস্থ ও গভীরতা বাড়িয়ে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা হয় এবং কয়েক হাজার কৃষক আবারও সেচ সুবিধা পান। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সুফলও কমে যায়। বর্তমান সরকারের বৃহৎ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় আবারও এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অংশে খননযন্ত্র ও শ্রমিকদের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন করে পুনঃখনন শেষ হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি নিষ্কাশন সহজ হওয়া এবং স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, শুধু খাল খনন করলেই হবে না, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং বর্জ্যমুক্ত রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দীর্ঘমেয়াদে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে এবং কৃষকেরা স্থায়ীভাবে উপকৃত হবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে পৌঁছে পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে