জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-সংক্রান্ত আলোচনায় নাবিল গ্রুপ সম্পর্কে উত্থাপিত বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, সংসদে উপস্থাপিত কিছু তথ্য তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যাংকিং নথি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার রেকর্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দেন। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও এর অনুলিপি পাঠানো হয়। সংসদে উত্থাপিত সংশ্লিষ্ট বক্তব্য জাতীয় সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার এলসি সুবিধা গ্রহণ ও পরিশোধ না করার যে তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এখন পর্যন্ত তারা মোট ৭ হাজার ১৮১ কোটি টাকার এলসি খুলেছে, যার মধ্যে ৫ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিশোধ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
সংসদে উপস্থাপিত ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক দায়ের তথ্যও ভুল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক দায় ৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের আগস্টে ছিল ৭ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি তারা জানায়, কোনো পর্যায়েই তারা ঋণখেলাপি নয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নাবিল গ্রুপ আরও দাবি করে, সংসদে তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে সম্পৃক্ততার যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। একই সঙ্গে অর্থপাচার, ঋণ আত্মসাৎ বা প্রতারণার মতো অভিযোগের কোনো প্রমাণিত ভিত্তি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দুই দশকের বেশি সময় ধরে কৃষি, খাদ্যপণ্য, শিল্প, আমদানি-রপ্তানি ও ভোগ্যপণ্য খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, টানা দুই বছর দেশের শীর্ষ ভোগ্যপণ্য আমদানিকারকের মধ্যে রয়েছে তারা। বর্তমানে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি এবং দুই লাখের বেশি মানুষ পরোক্ষভাবে তাদের সঙ্গে যুক্ত।
আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, দেশে তাদের কোনো গোপন বা অবৈধ সম্পদ নেই এবং পরিবারের সদস্যরাও দেশে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও ক্রীড়া খাতে অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের সহযোগী দলগুলো বিভিন্ন লিগে শিরোপা অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিচ্ছে। শেষে নাবিল গ্রুপ বলেছে, যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার আগে যথাযথ তথ্য ও নথি যাচাই করা
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন