মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারের রাজধানী দোহায় শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে আলোচনা প্রযুক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
সূত্র জানিয়েছে, দোহায় অন্তত তিনটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এসব গ্রুপ পারমাণবিক কর্মসূচি, কূটনৈতিক বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জব্দ করা তহবিল ফেরতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কাজ করছে। এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, তারা আলোচনার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও সরাসরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার ধারাবাহিকতায়ই এই আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে জানা গেছে। তবে এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসবেন। কিন্তু ইরান সেই দাবি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরানের বক্তব্য, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে না। বরং কাতার ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। কাতার সরকারও নিশ্চিত করেছে, এই মুহূর্তে কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত ও উত্তেজনার পরও আলোচনার এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পরোক্ষ এই আলোচনা ভবিষ্যতে কোনো বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে কি না। আরও সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খবর জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন