কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার জানিয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে জ্বালানি বাজারে। সর্বশেষ লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এসেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের মূল্য কমেছে। এর আগের কার্যদিবসেও তেলের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছিল।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দোহায় টানা দুই দিন ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। তবে আলোচনার অগ্রগতির ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। ইতোমধ্যে ওই রুটে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ খোলা থাকার সম্ভাবনা এবং তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারে। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোটের আসন্ন বৈঠকে উৎপাদন আরও বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন