আষাঢ়ের শেষ দিকে টানা ভারী বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করায় কয়েকটি বিভাগে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে তীব্র জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টির প্রভাবে সিলেট, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই। আগামী শনিবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ দুর্বল হয়ে গেলেও মৌসুমি বায়ু এখনো সক্রিয় রয়েছে। এর প্রভাবেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কয়েকটি স্থানে ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায়। টানা বর্ষণের কারণে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। দিনমজুর, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বৃষ্টির কারণে আয়-রোজগারে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি এলাকায় আগামী তিন দিনের মধ্যে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে বান্দরবানের সাঙ্গু নদ, কক্সবাজারের মাতামুহুরী নদ এবং হবিগঞ্জের খোয়াই নদ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন