বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন হাসপাতালগুলোর আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাস হয়েছে। সোমবার কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন পায়। নতুন আইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাণিজ্যিক অথবা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করলে আলোচনা শেষে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলটি সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং কমিটির সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার পর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন আইনে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কোম্পানি আইনের আওতায় নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গঠন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার অর্জন, সংরক্ষণ ও হস্তান্তরের ক্ষমতা পাবে। এসব কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে জমা হবে। ওই অর্থ চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন, চিকিৎসা শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং গবেষণামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ত করা এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
তবে বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, একটি সরকারি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে কোম্পানি গঠনের সুযোগ দেওয়া হলে স্বাস্থ্যসেবা ধীরে ধীরে বাজারনির্ভর হয়ে উঠতে পারে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরোক্ষভাবে বেসরকারীকরণের দিকে এগোতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের জন্য আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের চিকিৎসাসেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করবে। নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন