রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রুশ জ্বালানি আমদানির ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। আগে প্রস্তাবিত পাঁচশত শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে এখন সর্বোচ্চ একশত শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশ ভারত ও চীনের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন খসড়া আইনের উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় কমিয়ে ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধে অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করা। একই সঙ্গে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে বিকল্প উৎসের দিকে যেতে উৎসাহিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রস্তাবিত বিলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পরিচালিত কথিত ‘ছায়া ট্যাংকার’ বহরের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বড় রাষ্ট্রায়ত্ত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস প্রকল্পগুলোর ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়ার মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের পনেরো শতাংশের কম আমদানি করে এবং ধীরে ধীরে সেই নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, তাদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ সুবিধা পেলে কয়েকটি ইউরোপীয় ও এশীয় দেশ সম্ভাব্য শুল্কের আওতার বাইরে থাকতে পারে।
খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজন হলে প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট কোনো দেশের ক্ষেত্রে এসব নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত বা শিথিল করার ক্ষমতা রাখবেন। এদিকে মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই আইনে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হতে পারে। যদিও বিলের অন্যতম উদ্যোক্তারা আপাতত মূল প্রস্তাব অপরিবর্তিত রেখে দ্রুত আইন প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন