বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন প্রায় দুই দশক পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরছেন। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই প্রত্যাবর্তনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেক বিশিষ্টজন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তসলিমা নাসরিন নিজেই কলকাতায় ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেখানে তিনি লেখেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি আবারও মুক্ত পরিবেশে বাংলায় ফিরছেন।
জানা গেছে, কয়েকটি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তচিন্তার পক্ষে দীর্ঘদিনের অবস্থান এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে তার লেখা কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নির্বাসিত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার কলকাতায় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতীতের সরকারগুলোর সময় রাজনৈতিক নানা কারণে তার ফেরা সম্ভব হয়নি, যদিও আইনগতভাবে কোনো বাধা ছিল না।
এর আগে ভারতে তার বসবাসের অনুমতির নবায়ন নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পরে তা দূর হয়। এরপর থেকেই কলকাতায় তার প্রত্যাবর্তনের দাবি বিভিন্ন মহলে জোরালোভাবে উঠতে থাকে। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে একটি আলোচিত উপন্যাস প্রকাশের পর তীব্র বিরোধিতার মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। পরে তিনি ইউরোপ ও আমেরিকায় বসবাসের পর কলকাতায় স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন। কিন্তু ২০০৭ সালে আত্মজীবনীমূলক একটি গ্রন্থ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে তাকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তার কলকাতায় ফেরার পথ কার্যত বন্ধ ছিল। অবশেষে প্রায় দুই দশকের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও কলকাতায় ফিরছেন আলোচিত এই লেখিকা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন