ইসলামে মানুষকে ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে মনে করা হয়নি। মানুষ শয়তানের প্ররোচনা বা নিজের দুর্বলতার কারণে গুনাহে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ইসলাম শিক্ষা দেয়, ভুল হয়ে গেলে তা মানুষের কাছে প্রচার না করে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। কারণ, গুনাহের চেয়ে সেই গুনাহ প্রকাশ্যে প্রচার করা বা তা নিয়ে গর্ব করা আরও মারাত্মক বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা অনেক সময় বান্দার গোপন গুনাহ মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখেন এবং তাকে সংশোধনের সুযোগ দেন। কিন্তু কেউ যদি নিজেই সেই গোপন বিষয় প্রকাশ করে, তাহলে সে আল্লাহর দেওয়া পর্দা নিজ হাতে সরিয়ে ফেলে এবং নিজের জন্য বিপদের কারণ তৈরি করে। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বলেন, "আমার উম্মতের সকলকেই ক্ষমা করা হবে, তবে প্রকাশ্যে গুনাহকারী ব্যতীত।" (সহিহ বুখারি: ৬০৬৯, সহিহ মুসলিম: ২৯৯০)
হাদিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি রাতে গোপনে গুনাহ করার পর সকালে মানুষের কাছে নিজেই সেই গুনাহের কথা প্রকাশ করে বেড়ায়। এতে সে আল্লাহর দেওয়া গোপনীয়তার পর্দা নিজেই উন্মোচন করে। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, প্রকাশ্যে গুনাহের প্রচার সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। এতে অন্যরা পাপকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য মনে করতে পারে, যা সমাজে নৈতিক অবক্ষয় বাড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করে। তাই ইসলাম ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং সমাজকে পাপের প্রভাব থেকে দূরে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
গুনাহ হয়ে গেলে একজন মুমিনের করণীয়-
নিজের গুনাহ মানুষের কাছে প্রকাশ না করে আল্লাহর কাছেই গোপন রাখা।
আন্তরিক অনুশোচনার সঙ্গে আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।
ভবিষ্যতে সেই গুনাহে আর ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
বেশি বেশি নেক আমল, ইবাদত ও সৎকাজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
ইসলাম মানুষকে কখনো হতাশ হতে শেখায় না। বরং ভুলের পর আন্তরিক তওবা, আত্মশুদ্ধি এবং সৎপথে ফিরে আসার মাধ্যমেই আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আহ্বান জানায়।
সূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম এবং দৈনিক ইত্তেফাক।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন