নরসিংদীর মনোহরদীতে মাদকাসক্ত নাতির সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে এলাকাবাসীকে মাইকিং করে সতর্ক করেছেন এক দাদা। ব্যতিক্রমী এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান ব্যাপারীপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। অটোরিকশা ভাড়া করে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা ওই দাদার নাম মো. করম আলী ব্যাপারী। বয়স ৭২ বছর। তার নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার বয়স ২২ বছর। তারা দুজনই মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মাইকিংয়ে করম আলী ব্যাপারী এলাকাবাসীকে তার নাতি মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকানদারকে আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানান। এমনকি তাকে ধার দেওয়া বা নিজের মোবাইল ফোন তার হাতে না দেওয়ার জন্যও সতর্ক করেন তিনি। এরপরও কেউ তার সঙ্গে লেনদেন করলে থানায় অভিযোগ করার কথাও জানানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, মাহাবুব অল্প বয়সেই একাধিক বিয়ে করেছেন। তিনি বাজারের দোকানদারসহ বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং অনেক সময় দাদার নাম ব্যবহার করতেন। পরে এসব ধারদেনার দায় করম আলীকে বহন করতে হতো। দীর্ঘদিন ধরে এমন ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
করম আলী ব্যাপারী জানান, তার নাতি মানুষের কাছ থেকে টাকা এনে সেই টাকা তাকে পরিশোধ করতে বাধ্য করতেন। কয়েক দিন আগে জুয়া খেলে মাহাবুব ৬০ হাজার টাকা হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা তিনি পরিশোধ করেছেন। বাকি ১০ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাকে অপমান করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাজারে ছাগল বিক্রি করে তার সংসার চলে। এভাবে নাতির ধারদেনার বোঝা বহন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেছেন।
বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন জানান, মাহাবুব বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সেই দায় দাদার ওপর চাপিয়ে দিতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়েই করম আলী এমন ব্যতিক্রমী সতর্কবার্তা দিয়েছেন। মাহাবুবের ওপর মাদকের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তিনি অন্য কোনো অপরাধে জড়িত—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানান চেয়ারম্যান।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন