সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডে জনগণের ভোগান্তি বেড়েছে এবং সরকারের প্রতি জনআস্থা তলানিতে নেমেছে—এমন অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে জোটের মূল্যায়নের কথা তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৮০ দিনে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আগের সময়ের চেয়েও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লোডশেডিং, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং চলছে এবং গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে সার সংকটে কৃষকেরাও সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান তিনি।
সরকার নিজেদের ১৮০ দিনের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, সরকারের উচিত ছিল নিজেদের ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি করা এবং বিরোধী দল ও জনগণের সহযোগিতা চাওয়া। নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন সরকারের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ঘাটতিকে নির্দেশ করে। তার দাবি, সরকার পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সব পক্ষকে নিয়ে একটি জাতীয় নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও সরকারের সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম। ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি। গঙ্গার পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও পুশ-ইনসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, শেখ হাসিনার বিচার এবং ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দেশের জন্য কল্যাণকর হবে না বলে ১১ দল মনে করছে। এদিকে বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চ একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। এতে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা এলে তারা গণতান্ত্রিকভাবে তা মোকাবিলা করে কর্মসূচি এগিয়ে নেবেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া হয়ে যশোর এবং ২১ নভেম্বর রেলপথে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার কথা রয়েছে। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন