মাত্র একজন খেলোয়াড় কম ছিল ম্যানচেস্টার সিটির। তবুও নিজেদের মাঠে সেই ১০ জনের দলের কাছেই অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। লাল কার্ড, বিতর্কিত গোল আর শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা—সব মিলিয়ে ১৯৯তম ম্যানচেস্টার ডার্বি যেন ইউনাইটেডের জন্য এক দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকল। ম্যাচের শুরুতেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজের একটি লাথির পর মেজাজ হারান সিটির ফিল ফোডেন। রাগের মাথায় প্রতিপক্ষের পেটে পা চালিয়ে বসেন তিনি। ফলাফল—সরাসরি লাল কার্ড। ফলে ম্যাচের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয় ম্যানচেস্টার সিটিকে।
সেই মুহূর্তে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইউনাইটেডের হাতে চলে যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল ঠিক উল্টোটা। ১০ জনের সিটি বরং আরও সংগঠিত হয়ে ওঠে। আর সুযোগ পেয়ে ইউনাইটেডের জালে বল জড়িয়ে দেন আর্লিং হলান্ড। নরওয়ের এই তারকার জন্য গোলটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগে এটি তার নবম গোল। ফলে দুই ম্যানচেস্টার প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে ইউনাইটেডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেলেন হলান্ড।
অন্যদিকে নিজেদের মাঠে ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। আক্রমণে ছিল না তেমন কোনো ধার, পরিকল্পনায় ছিল না পরিষ্কারত্ব। দলের বেশিরভাগ তারকাকেই যেন নিষ্প্রভ মনে হয়েছে। মার্কাস রাশফোর্ড ও কোবি মাইনুর দূরপাল্লার দুটি শট পোস্টে না লাগলে ইউনাইটেডের আক্রমণ নিয়ে বলার মতো সুযোগও খুব কম ছিল। এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কোচ মাইকেল ক্যারিক আসলে এই দলকে কোথায় নিয়ে যেতে চাইছেন?
অবশ্য সিটির জয় আরও বড় হতে পারত। এনজো ফার্নান্দেজের জোরালো শট কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স। বলটি পরে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অর্থাৎ ১০ জনের সিটির সামনে আরও গোল করার সুযোগ ছিল। তবে ম্যাচের একমাত্র গোলটি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইওস্কো গাভার্দিওলের ক্রস থেকে দূরের পোস্টে থাকা হলান্ড দারুণভাবে বল জালে পাঠালেও প্রথমে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।
প্যাট্রিক ডোরগু হলান্ডকে অনসাইডে রেখেছিলেন—এটি স্পষ্ট ছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বলটি ক্রস করার সময় ব্রুনো ফার্নান্দেজ কি বল স্পর্শ করেছিলেন? পুনঃপ্রচারে দেখা যায়, তিনি বল স্পর্শ করেননি। তবে তিনি লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বল পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন কি না, সেটিই বিতর্কের জায়গা। কারণ তিনি ডিফেন্ডারের দৃষ্টিপথে ছিলেন। তারপরও এই বিতর্ককে অজুহাত বানিয়ে ইউনাইটেড নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে না। লিগের প্রথম চার ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট নিয়ে তারা নেমে গেছে ১৩ নম্বরে। ফলে কোচ ক্যারিকের ওপর চাপ যে দ্রুত বাড়ছে, তা বলাই যায়।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পেয়েছিল ইউনাইটেড। অতিরিক্ত সময়ে ব্রায়ান এমবেউমোর সামনে এসে যায় গোলের সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। গ্যালারিতে তখন সিটি সমর্থকদের কণ্ঠে ব্যঙ্গ—‘আমাদের দল তো মাত্র ১০ জনের!’
শেষ পর্যন্ত সেই ব্যঙ্গই যেন পুরো ম্যাচের গল্প বলে দিল। একজন কম নিয়েও ম্যানচেস্টার সিটি জয় তুলে নিল, আর নিজেদের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবারও প্রশ্নের মুখে পড়ল। তাহলে কি এই ম্যাচে ইউনাইটেড অন্তত ড্র পাওয়ার যোগ্য ছিল? ম্যাচের পুরো চিত্র বলছে—না। বরং ১০ জনের সিটির বিপক্ষে ইউনাইটেডের যে সুযোগ ছিল, সেটিই তারা কাজে লাগাতে পারেনি। আর সেই ব্যর্থতার মূল্য দিতে হলো ম্যানচেস্টার ডার্বিতে পরাজয় দিয়ে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন