ঢাকা | |

জন্মনিবন্ধন দিবসে নতুন বন্দোবস্তের ভাবনা

দেশে একজন মানুষের একাধিক জন্মতারিখ থাকার ঘটনা যেন ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কারও জন্মনিবন্ধন সনদে এক তারিখ, আবার
  • আপলোড সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়
  • আপডেট সময় : ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪৮ সময়
জন্মনিবন্ধন দিবসে নতুন বন্দোবস্তের ভাবনা

দেশে একজন মানুষের একাধিক জন্মতারিখ থাকার ঘটনা যেন ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কারও জন্মনিবন্ধন সনদে এক তারিখ, আবার শিক্ষাগত সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা পাসপোর্টে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন জন্মতারিখ। ফলে নাগরিকের মৌলিক পরিচয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নথিগুলোর পারস্পরিক সামঞ্জস্য নিয়েই তৈরি হচ্ছে বড় প্রশ্ন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ১ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার ২৭৬টি জন্মনিবন্ধন করা হয়েছে। অথচ একই সময়ে জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করা হয়েছে ৭৯ লাখ ১১ হাজার ১১০টি। অর্থাৎ নতুন নিবন্ধনের তুলনায় সংশোধনের সংখ্যাও ছিল অত্যন্ত বেশি। এ পরিস্থিতিতে জন্মনিবন্ধন সনদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।


নিয়ম অনুযায়ী, জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতেই একজন শিক্ষার্থীর স্কুলের নথিতে জন্মতারিখ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে এসএসসি পরীক্ষার নিবন্ধনের আগে কিংবা পরে বয়স কমানো-বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। কখনো পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, কখনো পরীক্ষার নিবন্ধন, আবার কখনো বাল্যবিবাহের অভিযোগ এড়ানো কিংবা চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমার মধ্যে থাকার জন্য জন্মতারিখ পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু জন্মনিবন্ধন নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও একই ব্যক্তির নাম, বাবা-মায়ের নাম কিংবা জন্মতারিখে অমিল দেখা যায়। অথচ একজন নাগরিকের পরিচয় নির্ধারণে এসব গুরুত্বপূর্ণ নথিতে একই তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।


বাংলাদেশে জন্মনিবন্ধন ব্যবস্থার ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৮৭৩ সালের ২ জুলাই অবিভক্ত বাংলায় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন চালু করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও আইনটির যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় জন্মনিবন্ধনের হার খুবই কম ছিল। পরে ২০০৪ সালের ৭ ডিসেম্বর নতুন করে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০০৬ সালের ৩ জুলাই আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ৩ জুলাই জাতীয় পর্যায়ে জন্মনিবন্ধন দিবস পালন করা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সাল থেকে জন্মনিবন্ধন দিবসের তারিখ পরিবর্তন করে ৬ অক্টোবর করা হয়। এর পেছনে জুলাই মাসের আবহাওয়া, অর্থবছরের শুরু এবং প্রশাসনিক সুবিধাসহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরা হয়েছিল।


এদিকে দেশে একাধিক জন্মনিবন্ধন তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণের কথা উঠে এসেছে। বেশি বয়সে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিচের শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্য নতুন জন্মনিবন্ধন করা, এসএসসি পরীক্ষার সময় বয়স পরিবর্তন, বাল্যবিবাহের অভিযোগ এড়াতে বয়স বাড়ানো, পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন কিংবা চাকরির আবেদনে বয়সসীমার সুবিধা নেওয়ার জন্য জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা কিংবা জন্মস্থান—বিভিন্ন জায়গা থেকে জন্মনিবন্ধনের সুযোগ থাকায় একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মত দেওয়া হয়েছে।


লেখাটিতে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রকে আলাদা দুটি দলিল হিসেবে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রস্তাব করা হয়েছে, ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ব্যক্তিগত পরিচয়ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এতে একজন নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় রাখা সম্ভব হবে।


এ জন্য নতুন ব্যবস্থায় হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ এবং পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিশুর প্রথম টিকা দেওয়ার আগেই জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালুর কথাও বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ব্যক্তির পরিচিতি নম্বরে জন্মের বছর, মাস ও দিনের তথ্য এবং এরপর ধারাবাহিক নম্বর রাখার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। নতুন করে সবাইকে পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিবর্তে শুধু নবজাতকদের এই ব্যবস্থার আওতায় এনে ধীরে ধীরে একটি সুশৃঙ্খল পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও রয়েছে।


সব মিলিয়ে, জন্মনিবন্ধন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট—একজন নাগরিকের পরিচয়সংক্রান্ত সব নথিতে একই তথ্য নিশ্চিত করা এখন বড় একটি প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। একই ব্যক্তির একাধিক জন্মতারিখ ও একাধিক জন্মনিবন্ধনের সুযোগ বন্ধ করতে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাই লেখাটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা

পদত্যাগ করেছেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আসন শূন্য ঘোষণা