মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমা আয় করেছে ৩১০ কোটি রুপিরও বেশি! মুক্তির মাত্র ২৬ দিনেই বক্স অফিসে এমন সাফল্য অর্জন করে মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে নিভিন পাউলি ও মামিথা বাইজু অভিনীত ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’। ছবিটি পেছনে ফেলেছে এর আগে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড গড়া ‘লোকাহ: প্রথম অধ্যায়—চন্দ্র’ সিনেমাকে। এই অভাবনীয় সাফল্যে মালয়ালম চলচ্চিত্রজগতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছবিটি।
ভারতীয় বক্স অফিসের হিসাব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ২৬তম দিনে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি। এর মধ্যে ভারতের বাজার থেকে এসেছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি নিট আয়। অন্যদিকে, বিদেশের বাজার থেকে ছবিটি আয় করেছে ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি। তবে বিভিন্ন বাজারের আয় গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্য থাকায় মোট আয়ের হিসাবেও কিছুটা তারতম্য দেখা যেতে পারে।
চতুর্থ সপ্তাহেও সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ কমেনি। ১১ সেপ্টেম্বর ছবিটি আয় করে ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি। পরদিন শনিবার আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপিতে। রোববার সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করে ছবিটি, সেদিন আয় হয় ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি। সোমবার আয় ছিল ২ কোটি ১০ লাখ রুপি। এরপর মঙ্গলবার আয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ছবিটির আয় ছিল ৫২ কোটি ৩০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয় করে এটি। ধারাবাহিকভাবে ভালো ব্যবসা করায় চতুর্থ সপ্তাহেও ছবিটি বক্স অফিসে নিজের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ছবিটির সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে মালয়ালম ভাষার সংস্করণ। এই সংস্করণ থেকে এখন পর্যন্ত আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি। মুক্তির ২৬তম দিনে এক হাজার ২৫৭টি প্রদর্শনী থেকে মালয়ালম সংস্করণটি আয় করেছে ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি। পাশাপাশি তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে ৩ কোটি ৫২ লাখ এবং তামিল সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি। এর আগে মুক্তির ২৪তম দিনে ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ পেছনে ফেলে ‘লোকাহ: প্রথম অধ্যায়—চন্দ্র’ সিনেমাকে। তখন ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে, ‘লোকাহ’ সিনেমার মোট আয় ছিল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি। নতুন এই রেকর্ডের মধ্য দিয়ে মালয়ালম চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমার তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’।
মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমার আয় নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি অভিনেতা নিভিন পাউলির অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। সিনেমাটির সাফল্য নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিভিন জানান, পরিবারের দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া ছবিটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ছবিটির সাফল্যের কৃতিত্ব পুরো নির্মাণদলকে দিয়েছেন নিভিন পাউলি। বিশেষ করে পরিচালক গিরিশ এ ডির নির্মাণশৈলীর প্রশংসা করেছেন তিনি। অভিনেতার মতে, বয়সের ব্যবধান থাকা প্রেমের গল্প, হাস্যরস এবং আবেগঘন পারিবারিক ঘটনাগুলো দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। পরিবারের সবাই মিলে উপভোগ করার মতো সিনেমা হলে দর্শকপ্রিয়তা ও টিকিট বিক্রি—দুটিই বাড়ে বলেও মনে করেন তিনি।
পরিচালক গিরিশ এ ডির এই সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে অ্যাশলি নামের এক তরুণী এবং তার চেয়ে বয়সে বড় প্রতিবেশী জাস্টিনকে ঘিরে। দুজনের বয়সের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রেমের কাহিনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হাস্যরস, আবেগ এবং পারিবারিক টানাপোড়েন। প্রচলিত রোমান্টিক সিনেমার মতো এখানে নায়ককে সব সময় আত্মবিশ্বাসী ও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রক হিসেবে তুলে ধরা হয়নি। বরং তার দ্বিধা, অস্বস্তি এবং সাধারণ মানুষের মতো আচরণ গল্পটিকে আরও বাস্তবধর্মী করে তুলেছে। সিনেমাটিতে নিভিন পাউলি ও মামিথা বাইজুর পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সংগীত প্রতাপ, সুরেশ কৃষ্ণ, বিনয় ফোর্ট, রোশন শানাভাস ও শ্যাম মোহন। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন দিলীশ পোথান, ফাহাদ ফাসিল ও শ্যাম পুষ্করণ। সংগীত পরিচালনা করেছেন বিষ্ণু বিজয়।
মালয়ালম ভাষাভাষী প্রবাসী দর্শকদের কাছেও ছবিটি বিশেষ সাড়া পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিচিত পারিবারিক সম্পর্ক, দৈনন্দিন জীবনের ঘটনা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির উপস্থাপন প্রবাসী দর্শকদের আকৃষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি তামিল ও তেলুগু ভাষায় মুক্তি পাওয়ায় ছবিটি আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে। সব মিলিয়ে, মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই ৩১০ কোটি রুপির মাইলফলক অতিক্রম করে ‘বেথলেহেম ফ্যামিলি ইউনিট’ মালয়ালম চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। স্বল্প বাজেটে নির্মিত একটি সিনেমার এমন বাণিজ্যিক সাফল্য শুধু নিভিন পাউলির অভিনয়জীবনেই নতুন মাত্রা যোগ করেনি, বরং মালয়ালম চলচ্চিত্রের বক্স অফিস সম্ভাবনাকেও আরও একবার সামনে এনেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন