মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কি এবার আরও ভয়াবহ রূপ নিতে যাচ্ছে? সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার খবর ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, তা বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার গভীর রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরটিতে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়। হতাহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের পক্ষে হুথিবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে যোগ দিতেও পারে। বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প আরও বলেন, তাঁরা হামলার বিষয়ে সদ্য তথ্য পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশের নাগরিক। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। হামলায় আহত ৩০৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহতের খবর বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে নিহত ও আহতদের পরিচয় এবং তাঁদের পরিবারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এর আগেও সৌদি আরবের দুটি বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি হামলার সমালোচনা করে জানিয়েছিলেন, এ ধরনের ঘটনা তাঁকে সন্তুষ্ট করেনি। এবার রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণহানির খবর সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান চলমান। এর মধ্যে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে যোগ দিলে সংঘাতের পরিধি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে হামলার দায় কার, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। হতাহতের সংখ্যা ও হামলার বিবরণও নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন