ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের এমন বিপর্যয়, যা সমর্থকদের হতাশ করেছে। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭২ রান,
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময়
  • আপডেট সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৪২ সময়
ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হার দিয়ে শুরু টাইগারদের

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের এমন বিপর্যয়, যা সমর্থকদের হতাশ করেছে। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭২ রান, হাতে ছিল পুরো ৫০ ওভার। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ম্যাচেই ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয় বরণ করতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। প্রশ্ন উঠেছে, শুরুতে ভালো অবস্থানে থেকেও কেন এমন ব্যাটিং ধসে পড়ল বাংলাদেশ?


হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। তবে ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও অভিষিক্ত তাফাদজওয়া টিসিগাকে ফিরিয়ে মাত্র ২৪ রানের মধ্যেই তিনটি উইকেট তুলে নেন তাসকিন। শুরুতেই চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। কিন্তু এরপর ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেন অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সুযোগ বুঝে আক্রমণ চালিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাঁরা। দুজনই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। তাঁদের জুটি ভাঙতে অবশেষে সফল হন সাইফ হাসান। ৮১ রান করা ব্রেন্ডন টেলরকে বোল্ড করে বিপজ্জনক জুটির অবসান ঘটান তিনি। পরের ওভারেই জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে শূন্য রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশের আশা বাড়ান সাইফ।


এরপর ৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা ক্রেইগ আরভিনকে আউট করেন শরিফুল ইসলাম। তবে শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামহুরির কার্যকর ব্যাটিংয়ে আবারও ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট নেন। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে আশার আলো দেখিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলছিলেন তিনি। কিন্তু সৌম্য সরকার মাত্র ৯ রান করে মুজারাবানির বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর ৩৮ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে তানজিদ তামিম আউট হলে ভেঙে পড়ে উদ্বোধনী জুটির প্রতিরোধ।


দলীয় ৬৬ রানে তানজিদের বিদায়ের পর যেন হঠাৎ করেই দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ হাসান কেউই উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একের পর এক ব্যাটার ফিরে যাওয়ায় দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ রান করেন। তাসকিন আহমেদ অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে। তবে তাঁদের এই প্রচেষ্টা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।


জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি একাই তুলে নেন চারটি উইকেট। এ ছাড়া সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন। ফলে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় পরাজয় দিয়ে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ। এখন সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। পরের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো শুধরে জয়ের ধারায় ফিরতে পারবেন কি না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ

মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ