ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব’

মাত্র দুই মাস আগেও যেখানে ছিল ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সেই জায়গাতেই এখন সবুজ গাছপালা, পরিচ্ছন্ন
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়
  • আপডেট সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়
‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিবর্তন সম্ভব’

মাত্র দুই মাস আগেও যেখানে ছিল ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সেই জায়গাতেই এখন সবুজ গাছপালা, পরিচ্ছন্ন সড়কপাশ আর আলোকসজ্জা! ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকায় কীভাবে বদলে গেল চার কিলোমিটার এলাকার চিত্র? কত টন বর্জ্য সরানো হয়েছে, আর পরিবেশকে নতুনভাবে সাজাতে লাগানো হয়েছে কতটি গাছ?


পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি স্থানকে মানুষের কল্যাণে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ১৮ অক্টোবর দুপুরে সাভারের আমিনবাজার ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।


‘রূপান্তর’ নামের এই কার্যক্রমের আওতায় মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, গাছ রোপণ এবং পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র দুই মাস আগেও জায়গাটির অবস্থা যেমন ছিল, এখন তার চিত্র বদলে গেছে। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকার পরিবেশ আগের তুলনায় সুন্দর হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে মানুষের শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


তবে শুধু একবার পরিষ্কার করলেই হবে না, এই পরিবর্তন ধরে রাখাও জরুরি। এ জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকার জায়গাটিকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছে, এখন এই পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব।


আমিনবাজারের এই পরিবর্তন ধরে রাখার পাশাপাশি আশপাশের এলাকাগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন তারেক রহমান। তিনি জানান, ঢাকা জেলা প্রশাসনের আওতাধীন চার কিলোমিটারের বাইরের এলাকায় থাকা মিল-কারখানাগুলোর সঙ্গে সামাজিকভাবে আলোচনা করতে হবে। যেসব জায়গায় এখনো ময়লার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে উন্নত করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নিতে হবে। ধাপে ধাপে পুরো এলাকাকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা ও রঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ছয় হাজার ১৩০টি গাছ লাগানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টন বর্জ্য। এ ছাড়া আট হাজার ৮০০ বর্গমিটার এলাকায় মাটি এবং সমপরিমাণ এলাকায় বালু ভরাট করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে এক কিলোওয়াট ক্ষমতার দুটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে এক কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি বায়ুবিদ্যুৎচালিত যন্ত্র। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি। পানি জমে থাকা ও নিষ্কাশনের সমস্যা কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে ২০টি নালা।


ঢাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় তিন কোটি ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এর আগে রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি আমিনবাজারের ‘রূপান্তর’ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।


এখন বড় প্রশ্ন হলো, আমিনবাজারের চার কিলোমিটারে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা কি দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে? আশপাশের ময়লার স্তূপও কি একইভাবে সরিয়ে পুরো এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করে তোলা যাবে? সেই লক্ষ্য পূরণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পকারখানার সহযোগিতা কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ

মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, জাবিতে স্থায়ী বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ