অস্ট্রেলিয়ার সিডনির রাস্তায় এবার সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অ্যাসল্ট রাইফেল হাতে টহল দিচ্ছে পুলিশের বিশেষ ইউনিট। জননিরাপত্তা জোরদারে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন এই উদ্যোগ। গত ডিসেম্বরে বন্ডাই বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনল দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ভারী অস্ত্র নিয়ে পুলিশের নিয়মিত টহল এবারই প্রথম।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের নতুন এই ইউনিটের নাম ‘আর্মড রেসপন্স কমান্ড’। বড় অনুষ্ঠান, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা, ক্রীড়া আয়োজন এবং উপাসনালয়গুলোতে টহল দেবে ইউনিটটির সদস্যরা। এসব স্থানে পুলিশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। গত বছরের ডিসেম্বরে সিডনির বন্ডাই বিচে ইহুদিদের একটি উৎসবের অনুষ্ঠানে দুই ব্যক্তি গুলি চালায়। ইহুদিবিদ্বেষ থেকে চালানো ওই হামলায় প্রাণ হারান ১৫ জন। হামলাকারীরা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলেন বলে জানানো হয়। ওই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ায় জননিরাপত্তা ও সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার ব্যয়ে গঠন করা হয়েছে নতুন এই বিশেষ ইউনিট। এতে দায়িত্ব পালন করবেন ২৫০ জন পুলিশ সদস্য। তাদের হাতে থাকবে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী অ্যাসল্ট রাইফেল। ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের এমন টহল অস্ট্রেলিয়ায় বিরল হওয়ায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় এটিকে বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউনিটটির প্রধান গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু ইভান্স বলেন, বন্ডাই বিচের হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনো সশস্ত্র অপরাধী নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালালে কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, নতুন ইউনিটের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত থাকবেন। কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের প্রস্তুত রাখা হবে। তবে পুলিশের এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া। সংস্থাটির মতে, সিডনির রাস্তায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের টহল চালুর সিদ্ধান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
বিশেষ করে পুলিশের কার্যক্রম ক্রমেই সামরিক বাহিনীর মতো হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে এমন নিরাপত্তাব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের মানবাধিকার সুরক্ষায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে বন্ডাই বিচের ভয়াবহ হামলার পর সিডনির নিরাপত্তাব্যবস্থায় এসেছে বড় পরিবর্তন। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এই কঠোর পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন