বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অন্য বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (১০ আগস্ট) দুপুর ১টায় ড. মুহাম্মদ ইউনুস ভবন প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা স্লোগান দেন— “স্বতন্ত্র রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রক্ষা করো রক্ষা করো”, “পিএসসির প্রহসন, মানি না মানবো না”, “পিএসসির স্বজনপ্রীতি, মানি না মানবো না”, “শিক্ষা ক্যাডার শিক্ষা ক্যাডার, রক্ষা করো রক্ষা করো” এবং “আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই” ইত্যাদি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে পিএসসি শিক্ষা ক্যাডারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগকে মার্জ করার সুপারিশ করেছে। তাদের দাবি, এই প্রস্তাব রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্বাতন্ত্র্য, মর্যাদা ও পেশাগত পরিসরে সরাসরি হস্তক্ষেপ।
তাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক পাঠ্য হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রয়েছে শতবর্ষের ঐতিহ্য, সুসংহত পাঠক্রম, নিজস্ব গবেষণা ক্ষেত্র এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মে গড়ে ওঠা অ্যাকাডেমিক কাঠামো। অন্য বিভাগের সঙ্গে মার্জ হলে এই মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে এবং শিক্ষা ক্যাডারে যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট হবে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল আউয়াল বলেন, “আমরা জুলাই অভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা মানুষ, কোনো প্রকার অন্যায় মেনে নেব না। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ একটি স্বতন্ত্র ডিসিপ্লিন। এর সঙ্গে অন্য বিভাগকে সমন্বয় করে আমাদের স্বাতন্ত্র্য নষ্ট করবেন না। স্বতন্ত্রতা রক্ষায় আমরা শেষ অব্দি কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
একই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান শাফি বলেন, “পিএসসি বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের বরাদ্দকৃত সিটগুলো লোক প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে ভাগাভাগি করার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা চাই, প্রত্যেক বিভাগ তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র শিক্ষা ক্যাডার পাক।”
এ বিষয়ে চবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, “সরকার চাইলে কলেজ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও লোক প্রশাসন আলাদা করে ডিসিপ্লিন চালু করতে পারে। কিন্তু পলিটিক্যাল সায়েন্সের টিচিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কিংবা লোক প্রশাসনকে ওপেন করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এটা উচিত নয়। বড় কলেজগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও লোক প্রশাসন আলাদা বিভাগ চালু করা সময়ের দাবি। কিন্তু শুধুমাত্র বিসিএসে চাকরির অন্যান্য বিষয় মার্জ করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন