আপনি কি কখনো উজ্জ্বল সকালের আলোতে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে সতেজ ও চনমনে অনুভব করেছেন? এর একটি বড় কারণ হলো সূর্য থেকে আসা উচ্চমাত্রার নীল আলো। দৃশ্যমান আলোর বর্ণালির মধ্যে নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য আমাদের শরীরের ঘুম–জাগরণ নিয়ন্ত্রণকারী অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম—উভয় ধরনের নীল আলোই আমাদের সতর্কতা ও মানসিক তীক্ষ্ণতা বাড়াতে পারে। তবে অতিরিক্ত নীল আলো শরীরের বিশ্রামের প্রয়োজনের সময় আপনাকে জাগিয়ে রাখতে পারে।
নীল আলো কীভাবে ঘুমের ক্ষতি করে
আমাদের চোখ নীল আলো আটকাতে খুব একটা সক্ষম নয়। ফলে প্রায় পুরো নীল আলো চোখের রেটিনার পেছনে পৌঁছে যায়, যেখানে আলোকে ছবি হিসেবে ব্যাখ্যা করতে মস্তিষ্ক সাহায্য করে। সব রঙের আলোই আমাদের প্রাকৃতিক ঘুম–জাগরণ চক্র (সার্কেডিয়ান রিদম) নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে অন্য যেকোনো রঙের তুলনায় নীল আলো বেশি ক্ষতিকর, কারণ এটি মেলাটোনিন নামের হরমোনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এই হরমোন আমাদের ঘুম পেতে সাহায্য করে।
ফলাফল: রাতে আপনি স্বাভাবিকের তুলনায় কম ঘুমঘুম ভাব অনুভব করেন এবং ঘুমোতে যেতে বেশি সময় লাগে।
নীল আলোর উৎস
গড়ে একজন আমেরিকান প্রতিদিন প্রায় ৭ ঘণ্টা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেন। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে নীল আলোর দিকে তাকিয়ে থাকেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো—১০ জনের মধ্যে ৯ জন মানুষ ঘুমানোর ঠিক আগে সপ্তাহে কয়েক রাত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করেন। এটি অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ায়। আমাদের ডিভাইসের আলো দেখতে সাদা মনে হলেও, এগুলো ৪০০ থেকে ৪৯০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল আলো নির্গত করে। ঘরের ভেতরের নীল আলোর উৎসগুলো হলো—
- টেলিভিশন
- স্মার্টফোন
- ট্যাবলেট
- গেমিং সিস্টেম
- ফ্লুরোসেন্ট বাতি
- এলইডি (LED) বাতি
- কম্পিউটার মনিটর
নীল আলোর প্রভাব কমানোর উপায়
- কৃত্রিম নীল আলো কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো—ঘুমানোর অনেক আগে থেকেই স্মার্টফোন, টিভি ও অন্যান্য ডিভাইস বন্ধ রাখা। এছাড়াও—
- নীল আলো প্রতিরোধী চশমা ব্যবহার করুন। অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়। অ্যাম্বার বা বাদামি রঙের লেন্স সবচেয়ে কার্যকর।
- ঘুমানোর ২–৩ ঘণ্টা আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দিন।
- ডিভাইসের উজ্জ্বলতা কমান। একে সাধারণত নাইট মোড বা ডার্ক মোড বলা হয়, যা সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের বদলে কালো করে।
- নীল আলো ফিল্টারিং অ্যাপ ব্যবহার করুন। এগুলো চোখে পৌঁছানো নীল আলোর পরিমাণ কমায়, কিন্তু স্ক্রিন দেখতে অসুবিধা হয় না।
- বাল্ব পরিবর্তন করুন। এলইডি বাতি ফ্লুরোসেন্টের তুলনায় বেশি নীল আলো দেয়, আর দুটোই সাধারণ ইনক্যান্ডেসেন্ট বাতির চেয়ে বেশি নীল আলো নির্গত করে।
- নাইট লাইট হিসেবে হালকা লাল আলো ব্যবহার করুন। লাল আলো সার্কেডিয়ান রিদমের ওপর সবচেয়ে কম প্রভাব ফেলে।
- ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে অ্যালার্ম সেট করুন, যাতে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করার কথা মনে থাকে।
সুত্র:ওয়েবএমডি
বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন