এগারো বছর ধরে এক মুদি দোকানের বারান্দায় রাত কাটায় শিউলি। সারাদিন ভিক্ষা করে, রাতে এসে শোয়। নিজের পুরো নামও মনে নাই তার—কারণ ডাকার মতো কেউ নেই। উল্টা পাশে আরেক দোকানের বারান্দায় থাকে করিম। এক চোখ অন্ধ, সেও ভিক্ষা করে। মাঝে মাঝে কাছে এসে জিজ্ঞেস করে—“আজ কী খাইলা?” শিউলি রেগে তাড়িয়ে দেয়। পুরুষ মানুষকে সে বিশ্বাস করে না।
করিম তবুও হাল ছাড়ে না। কখনো ফল এনে দেয়, রাতে শুয়ে গান গায়। গান শুনে শিউলির বিরক্ত লাগে, কখনো ইট ছুঁড়ে মারে। করিম চুপ হয়ে যায়, আবার পরের রাতেই গান শুরু করে। একদিন শিউলির জ্বর হয়। করিম ভয় পেতেও কাছে আসে, সাহায্য করতে চায়। কিন্তু শিউলি তাকে তাড়িয়ে দেয়। করিম কিছু না বলে মাথার পাশে একটা আপেল রেখে চলে যায়।
পরের রাতে আবার জ্বর। এইবার শিউলির ভীষণ ভয় লাগে। প্রথমবার সে করিমকে খোঁজে। পাশের বারান্দায় তাকায়—কেউ নেই। ভোরে হৈচৈ শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখে, করিম পড়ে আছে। রাতে গুলিতে মারা গেছে।
শিউলি চুপচাপ নদীর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। কালো পানির দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারে— সে এতদিন একা ছিল না। আজ সত্যিই একা হয়ে গেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন