কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এসএসসি পরীক্ষার মাত্র এক দিন আগে চরম সংকটে পড়েছেন মোছা. জারিন তাসনিন সন্ধি নামের এক পরীক্ষার্থী। দুই বছর মানবিক বিভাগে পড়াশোনা করেও শেষ মুহূর্তে জানা যায়, দাপ্তরিকভাবে তার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে বাণিজ্য বিভাগে। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয় থেকে প্রবেশপত্র বিতরণের সময় বিষয়টি সামনে আসে। এতে হতভম্ব হয়ে পড়েন শিক্ষার্থী ও তার পরিবার। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীর।
পারিবারিক সূত্র জানায়, জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করার পর তিনি মানবিক বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। দশম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় ৮০৭ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। তবে প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে দেখা যায়, সেখানে তার বিভাগ ‘ব্যবসায় শিক্ষা’ উল্লেখ করা হয়েছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সন্ধি বলেন, “আমি মানবিকে পড়েছি, প্রথম হয়েছি। এখন পরীক্ষার একদিন আগে জানা গেল আমি বাণিজ্যের ছাত্র। এত অল্প সময়ে বই বদলে প্রস্তুতি নেওয়া অসম্ভব।”
তিনি আরও জানান, নবম শ্রেণির শুরুতে অল্প সময়ের জন্য তিনি বাণিজ্য বিভাগে ছিলেন, পরে মানবিকে চলে আসেন। কিন্তু শিক্ষকদের অবহেলায় নথিপত্র সংশোধন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে উত্তর চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, “যে বিভাগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, সেই অনুযায়ীই প্রবেশপত্র এসেছে। বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। বোর্ডে গিয়ে দেখা হবে।”
অন্যদিকে জোতমোড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, শিক্ষার্থী শুরুতে কমার্সে ছিল এবং রেজিস্ট্রেশনেও সে তথ্য রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, বিষয়টি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ পাননি, তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এতিম এই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। মানবিক বিভাগের প্রবেশপত্র না পেলে নির্ধারিত সময়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন