ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

স্কুলে হিজাব পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

কর্ণাটক সরকার ২০২২ সালের বহুল আলোচিত স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত
  • আপলোড সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:২৫ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:২৫ সময়
স্কুলে হিজাব পরার অনুমতি দিলো কর্ণাটক সরকার

কর্ণাটক সরকার ২০২২ সালের বহুল আলোচিত স্কুল ইউনিফর্ম সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করে নতুন নীতিমালা জারি করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ইউনিফর্মের পাশাপাশি সীমিত পরিসরে হিজাব, পৈতা ও অন্যান্য ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে কর্ণাটকে হিজাব ইস্যুকে ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় জারি করা নির্দেশনায় ধর্মীয় প্রতীক ছাড়া কঠোরভাবে ইউনিফর্ম অনুসরণের কথা বলা হয়। নতুন আদেশে সেই নির্দেশনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।


সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা এখন পাগড়ি, পেটা, জেনেউ, শিবধারা, রুদ্রাক্ষ ও হিজাবের মতো ধর্মীয় বা ঐতিহ্যবাহী প্রতীক পরতে পারবে। তবে এসব প্রতীক যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, পরিচয় শনাক্তকরণ কিংবা স্বাভাবিক পরিবেশে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় প্রতীক পরার কারণে শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা বা অন্য শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধা দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে কাউকে জোর করে এসব প্রতীক পরতে বা খুলতেও বাধ্য করা যাবে না।


তবে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের পরীক্ষাগুলোতে সংশ্লিষ্ট ড্রেস কোড কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধর্ম, সংস্কৃতি বা পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা বলেন, গত বছর এবং চলতি বছরের এপ্রিলেও কিছু শিক্ষার্থীকে ধর্মীয় প্রতীক খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছিল। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। তিনি বলেন, “শিক্ষা ও ভবিষ্যতের পথে এসব বিষয় বাধা হওয়া উচিত নয়। ধর্মীয় প্রতীক মানুষের বিশ্বাস ও চর্চার অংশ।”


অন্যদিকে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। বিজেপি বিধায়ক ভরত শেঠি দাবি করেছেন, সরকার নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। এছাড়া বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা গিরিশ ভারতদ্বাজ বলেন, হিজাব অনুমোদন করলে হিন্দু শিক্ষার্থীদেরও গেরুয়া শাল পরার সুযোগ দিতে হবে। কর্ণাটক সরকার বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের জায়গা নয়; বরং সমতা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে।


সূত্র: এনডিটিভি

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ