ঢাকা | |
সংবাদ শিরোনাম :

বাজেট অধিবেশনেই সব কমিটি

আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী
  • আপলোড সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
  • আপডেট সময় : ১৪ মে ২০২৬, সকাল ৯:৩০ সময়
বাজেট অধিবেশনেই সব কমিটি

আসন্ন বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ সূত্রে জানা গেছে, এই অধিবেশনেই অধিকাংশ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। নীতিগতভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর নজরদারির জন্য মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষভাবে আলোচিত ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই করবে। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবদীনকে।


প্রথম ধাপে গঠিত অন্য কমিটিগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্য উপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সংক্রান্ত কমিটি। সংসদ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য সদস্যরা। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সভাপতিত্বে গঠিত সংসদ কমিটি সংসদের অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে। অন্যদিকে বিশেষ অধিকার কমিটির দায়িত্বে থাকবেন স্পিকার।


বর্তমানে সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন দুটি আসনের বিষয় এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। সরকারি দল বাজেট অধিবেশনেই সব সংসদীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। চিফ হুইপ ও হুইপদের সমন্বয়ে একটি খসড়া তালিকা তৈরি করে সংসদ নেতার অনুমোদনের পর তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পরে কণ্ঠভোটে কমিটিগুলো গৃহীত হবে। জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ পেতে রাজনৈতিক ও অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক সমীকরণে আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য, পাশাপাশি নতুন কিন্তু যোগ্য সদস্যদেরও সভাপতি পদে বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি বিরোধীদলীয় জোট ও স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকেও কিছু কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে।


সংসদীয় কমিটির সভাপতিরা সরাসরি নির্বাহী ক্ষমতা না পেলেও নীতিগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি, ফাইল তলব, তদন্ত ও সুপারিশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। কমিটির বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক থাকে এবং জবাবদিহির সুযোগ তৈরি হয়। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, আসন্ন বাজেট অধিবেশনে গঠিত এই কমিটিগুলো সরকারের প্রশাসনিক জবাবদিহি ও সংসদীয় নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • বিষয়:

নিউজটি আপডেট করেছেন: নিউজ ডেস্ক।

বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ