বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন পবিত্র হজ ও ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় নেই উৎসবের কোনো আমেজ। টানা সংঘাত, অবরোধ ও মানবিক সংকটের কারণে সেখানে বসবাসকারী লাখো ফিলিস্তিনি এবারও ঈদ ও হজের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দক্ষিণ গাজার একটি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বৃদ্ধা নাজিয়া আবু লেহিয়া গভীর হতাশা প্রকাশ করে জানান, বহুদিন ধরে তিনি হজ পালনের স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা পূরণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত বছর ইসরায়েলি হামলায় তার স্বামী নিহত হওয়ার পর জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিবছর গাজা থেকে হাজারো মুসলমান সৌদি আরবে হজ পালনে যেতে পারতেন। কিন্তু চলমান অবরোধ ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে এখন সাধারণ মানুষের বিদেশ যাত্রা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাফা সীমান্ত সীমিত আকারে চালু থাকলেও সেখানে শুধুমাত্র গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের বিশেষ অনুমতিতে পারাপারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানিও এবার গাজাবাসীর নাগালের বাইরে। গাজার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, টানা সামরিক অভিযান ও অবরোধে পশুপালন খাত প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো কোরবানি ছাড়াই ঈদ উদযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন উপত্যকার বাসিন্দারা।
সব প্রতিকূলতার মধ্যেও গাজার সাধারণ মানুষ সৃষ্টিকর্তার রহমতের অপেক্ষায় আছেন। নাজিয়া আবু লেহিয়া বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি হজ পালনের আশা ছাড়বেন না।
সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন