কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের সুগন্ধা পয়েন্টে রাতের আঁধারে দখল করা অন্তত ১০ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। রোববার বিকেলে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এসব জমি দখলমুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে টিন ও বাঁশের তৈরি অবৈধ ঘেরাও সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসন জানায়, গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে সুগন্ধা পয়েন্ট দিয়ে সৈকতে যাওয়ার রাস্তার পাশে সরকারি জমি দখল করে টিন ও বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছিল। রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক দিয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বিশাল এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয় বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান। দখল করা জমির বর্তমান বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেছেন আশপাশের ব্যবসায়ীরা। তবে কারা এই জমি দখলের সঙ্গে জড়িত, তা এখনো শনাক্ত করতে পারেনি প্রশাসন।
এদিকে জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হকারদের সঙ্গেও উত্তেজনা তৈরি হয়। শনিবার বিকেলে কয়েকজন হকার লাঠিসোটা নিয়ে বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করেন। পরে শনিবার রাতেই আবার নতুন করে জমিটি ঘিরে ফেলা হয়। অভিযানের পর উদ্ধার করা জমিতে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন প্রায় ১৩০ একর সরকারি জমিতে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলা হয়। সেখানে ৮৭টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করায় ২০১০ সালে ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করা হয়। ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন ইজারাদাররা। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত রিট খারিজ করে দেন। এরপর জেলা প্রশাসন বাতিল হওয়া প্লটগুলো নিজেদের দখলে নেয়।
প্রশাসনের দাবি, সম্প্রতি রাতের আঁধারে যে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটিও বাতিল হওয়া প্লটগুলোর অন্তর্ভুক্ত। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দখলদারদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন