নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক হড়পা বানে অন্তত ২৯০ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাশ মানসরোবর যাত্রার উদ্দেশ্যে সীমান্ত পার হওয়ার সময় ভয়াবহ এই দুর্যোগের কবলে পড়েন তাঁরা। হিমালয়সংলগ্ন ওই অঞ্চলে বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাও পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের রসুওয়াগড়ী সীমান্ত দিয়ে তিব্বতের জিরং এলাকায় প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের কয়েকটি দল। নেপালের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশের ঠিক আগমুহূর্তে সেখানে পাহাড়ি ঢল ও হড়পা বান আঘাত হানে। এরপর থেকেই অনেক তীর্থযাত্রীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্যোগের পর নেপাল কিংবা চীনের কোন অংশে কতজন আটকা পড়েছেন, কতজন নিখোঁজ বা হতাহত হয়েছেন—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে কলকাতা থেকে যাওয়া প্রায় ৩০ জনের একটি দলের সদস্যরাও রয়েছেন। ওই দলের সদস্য শুভ্রশ্রী চক্রবর্তী, বয়স ৪৩ বছর, গত ২৬ আগস্ট সকাল ৮টা ৩ মিনিটে তাঁর স্বামী সুদীপ্ত ভট্টাচার্যকে সর্বশেষ বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি নেপালের ইমিগ্রেশন শেষ করার প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্টে দেওয়া সিলমোহরের ছবি পাঠিয়ে জানান, তাঁরা চীনে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই ওই এলাকায় দুর্যোগ আঘাত হানে এবং তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।
শুভ্রশ্রীর স্বামী জানান, দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর ট্যুর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ও দলের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ, নিহত ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি স্পষ্ট তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই দলের আরেক সদস্য কলকাতার বাসিন্দা রীনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তাঁর স্বজনদের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি নেপালের ইমিগ্রেশন পার হয়েছিলেন। তবে হড়পা বানের সময় তিনি সীমান্তের কোন পাশে ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলকাতাভিত্তিক সংশ্লিষ্ট ট্যুর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় নিখোঁজ যাত্রীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারাও নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না। করোনা মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে ভারত ও চীনের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কৈলাশ মানসরোবর তীর্থযাত্রা। গত বছর এই যাত্রা আবার শুরু হওয়ার পর প্রতিবছর ভারত থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। এবারের ভয়াবহ দুর্যোগে শত শত তীর্থযাত্রী নিখোঁজ হওয়ায় তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। উদ্ধার অভিযান জোরদার করা এবং যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পরই নিখোঁজদের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন