যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, মার্কিনিরা যদি সত্যিই যোদ্ধা হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হোক। তার অভিযোগ, ইরানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে মার্কিন বাহিনী এখন বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ জনগণকে লক্ষ্যবস্তু করছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন ইরানের সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে বেসামরিক স্থাপনা, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে খাবার ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানি জনগণকে জোরজবরদস্তির মাধ্যমে নতিস্বীকার করানো যাবে না বলেও কঠোর অবস্থান জানান তিনি। পেজেশকিয়ান আরও স্পষ্ট করে বলেন, যত চাপই আসুক, ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান আবারও প্রকাশ পেল।
দীর্ঘ ৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুদ্ধবিরতির পরও ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের। এর ফলে খাদ্য, ওষুধসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য ইরানে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে মূলত এই অবরোধের বিরুদ্ধেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। তার অভিযোগ, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠিন করে তুলেছে। সংঘাত শুরুর আগে যে পরিমাণ জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহার করত, বর্তমানে সেই চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। বরং অবরোধ, পাল্টা চাপ এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে দুই দেশের সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন