বহুল আলোচিত ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিয়ে ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন আনোয়ার ইব্রাহিম। সেখানে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় জাকির নায়েককে ভারতের কাছে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তবে সংবেদনশীল এই বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব এবং আলোচনার গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান মালয়েশিয়া বুঝতে পারছে। তবে এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পাশাপাশি আইনের শাসনও নিশ্চিত করতে হবে।
২০১৬ সালে ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান জাকির নায়েক। পরে তিনি দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পান। এরপর তাকে ভারতের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায় নয়াদিল্লি। তবে মালয়েশিয়া বরাবরই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। মালয়েশিয়াতেও জাকির নায়েককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালে দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠী নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি সামাল দেন এই ইসলামি বক্তা।
এখন জাকির নায়েককে ভারতের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি মূলত আইনি প্রক্রিয়া, তথ্য-প্রমাণ এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে। মালয়েশিয়া নিজেদের আইন ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক—দুই দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন