৩-১ গোলে পিছিয়ে, হাতে মাত্র সাত মিনিট! এরপর রিয়াল মাদ্রিদের এমন প্রত্যাবর্তন, যা ফুটবলপ্রেমীদের অবাক করে দিতে বাধ্য। শেষ মুহূর্তে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল করে রোমার মাঠেই ৪-৩ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আবারও প্রমাণ হলো, শেষ বাঁশি বাজার আগে রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো নিশ্চিত বলা কতটা কঠিন!
ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তখন মনে হচ্ছিল, জয় তো দূরের কথা, অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারবে কি না দলটি, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। একের পর এক আক্রমণে মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে তিন গোল করে ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেয় রিয়াল। রোমার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল বিশেষ আবেগেরও। একসময় রোমার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হোসে মরিনিয়োর স্মৃতি স্মরণে গ্যালারিতে ছিল নানা ব্যানার। তবে সাবেক কোচের উপস্থিতির আবহের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে রিয়াল মাদ্রিদের অবিশ্বাস্য জয়।
ম্যাচের ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্টেন ডে রুন। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরায় রিয়াল। বক্সের বাইরে থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া জোরালো শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ১-১ হয় স্কোরলাইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচে এটি ছিল এমবাপ্পের ৭২তম গোল। এই গোলের মধ্য দিয়ে রিয়াল কিংবদন্তি রাউলকে ছাড়িয়ে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এককভাবে পঞ্চম স্থানে উঠে আসেন ফরাসি তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় রোমা। মাত্র ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করেন নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ৫৭ মিনিটে আবারও জাল কাঁপান মালেন। শুরুতে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা। এরপর ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা কার্লোস ইস্পি রিয়ালের হয়ে ব্যবধান কমান। এন্দ্রিকের হেড রোমার গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান ইস্পি। দুই মিনিট পর আর্দা গুলারের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এন্দ্রিক।
তবে নাটকের তখনো বাকি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। ম্যাচের ৯০ মিনিটে গুলারের নেওয়া আরেকটি সেট পিস থেকে কাছের পোস্টে দুর্দান্ত ভলিতে জয়সূচক গোল করেন আন্তোনিও রুডিগার। মুহূর্তেই ৩-১ থেকে ৪-৩—অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তনে স্তব্ধ হয়ে যায় রোমার সমর্থকেরা, আর উল্লাসে মেতে ওঠে রিয়াল শিবির। ম্যাচের শেষদিকে মাত্র সাত মিনিটে তিন গোল করে রিয়ালের এই জয় আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা ছাড়তে নেই। আর রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষেত্রে অসম্ভব মনে হওয়া প্রত্যাবর্তনও যে সম্ভব, সেটিই যেন নতুন করে দেখল ফুটবলবিশ্ব।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন