দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার ও তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে মোট ৭০টি মামলা। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট আসামি ৪৮৮ জন। তাঁদের মধ্যে ১৮৩ জন কারাগারে থাকলেও পলাতক রয়েছেন ৩৫২ জন, যাঁদের মধ্যে ৪৮ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি বিগত দেড় দশকে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও রয়েছে এসব মামলায়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বুধবার চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তথ্যে এসব বিষয় উঠে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে ২৬টি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৩২৮ জন। এ ছাড়া আরও ৪৪টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন দুটি ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তিনটি এবং ট্রাইব্যুনাল-২ চারটি মামলার রায় দিয়েছেন। এসব রায়ে শেখ হাসিনাসহ ২৩ জন আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালের অবকাঠামো ও কার্যক্রম নতুন করে গড়ে তুলতে হয়েছে। এ কারণে তদন্ত ও বিচারকাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে একটি মামলার বিচার শেষ করতে গড়ে সাত থেকে আট মাস সময় লাগে। মামলার ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী তদন্তের সময়ও ভিন্ন হয়ে থাকে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন পেয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়নি। অভিযোগ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের অনুমোদন পাওয়ার পর তা দাখিল করা হবে। প্রসিকিউটর তামীমের ভাষ্য, নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক পক্ষের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকে।
এদিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সেগুলো পর্যালোচনা করছেন। তবে এই তদন্ত শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেনন ও আনিসুল হকসহ কয়েকটি আলোচিত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর তামীম। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের ধাপ আসবে। এরপর পরবর্তী কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণ করবেন ট্রাইব্যুনাল।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একদিকে চলমান মামলাগুলোর বিচার এগোচ্ছে, অন্যদিকে নতুন মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। এসব মামলার পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে তদন্ত শেষ হওয়া, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন