একটি মুহূর্তের উত্তেজনা, আর তার জেরেই চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা! স্প্যানিশ লিগে লাল কার্ড দেখার পর এবার বড় শাস্তির মুখে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সবচেয়ে বড় ধাক্কা, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বার্সেলোনার বিপক্ষে বহুল আলোচিত এল ক্লাসিকোতেও খেলতে পারবেন না তিনি। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে সেই ম্যাচে? কেন শাস্তি পেলেন ভিনিসিয়ুস, আর কেনই বা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি ও রিয়াল মাদ্রিদের কোচ?
ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচে ঘটে এই ঘটনা। চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে না পারায় ম্যাচের শুরুতে ভিনিসিয়ুসকে একাদশে রাখেননি রিয়াল মাদ্রিদের কোচ। পরে ৫২ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। কিন্তু মাঠে নামার মাত্র ২১ মিনিট পরই লাল কার্ড দেখে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় নাথান সালিবার চুল টেনে ধরার অভিযোগ ওঠে ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জন্য তাঁকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি রেফারির লাল কার্ডের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোর কারণে আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চার ম্যাচ মাঠের বাইরে থাকতে হবে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকাকে।
বুধবার স্প্যানিশ ফুটবলের শৃঙ্খলা কমিটি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ফলে সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না ভিনিসিয়ুস। বিশেষ করে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো মিস করাটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে শাস্তি নিয়ে চুপ থাকেননি ভিনিসিয়ুস। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সহিংস আচরণ করেননি। তাঁর অভিযোগ, চুল টেনে ধরার ঘটনাটি নিয়ে তাঁকে কখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অন্য খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আঘাত পেলেও শেষ পর্যন্ত কার্ড তাঁকেই দেখতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
সবচেয়ে বেশি আপত্তি জানিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় নিয়ে। ভিনিসিয়ুসের বক্তব্য, শাস্তির সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য কর্তৃপক্ষের হাতে সারাদিন সময় ছিল। অথচ তাঁরা যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছান, ঠিক তখনই জানানো হয় যে পরবর্তী চারটি লিগ ম্যাচে খেলতে পারবেন না তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিওর কণ্ঠেও শোনা গেছে অসন্তোষ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে কেন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হলো। তাঁর মতে, অন্য সময়েও এই সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব ছিল। ঘোষণার সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। শাস্তিটি শুধু স্পেনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতার জন্য প্রযোজ্য। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে কোনো বাধা নেই ভিনিসিয়ুসের। তাই নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়ার পরও রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মাঠে নামতে পেরেছেন তিনি। সব মিলিয়ে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এখন স্প্যানিশ ফুটবলে আলোচনার বড় বিষয়। একদিকে শৃঙ্খলা কমিটির শাস্তির সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে খেলোয়াড় ও কোচের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে। এখন দেখার বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব রিয়াল মাদ্রিদের লিগ লড়াইয়ে কতটা পড়ে এবং এল ক্লাসিকোয় ভিনিসিয়ুসকে ছাড়া দলটি কীভাবে মাঠে নামে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন