নির্বাচনে জয় নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে জয় নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাঁর। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই নেতা। প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের আগে নিজের জয় নিয়ে কেন এতটা উদ্বিগ্ন নেতানিয়াহু?
রোববার, ১৮ অক্টোবর, রেডিও নর্থকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে নিজের জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। পরবর্তী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই।
সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদেরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। গাদি আইজেনকোট, নাফতালি বেনেট এবং আবিগদোর লিবারম্যানের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, তাঁদের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চেষ্টা করলে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য গাদি আইজেনকোটকে মনসুর আব্বাস ও আহমেদ তিবির সমর্থন প্রয়োজন হতে পারে। তিনি দাবি করেন, এই দুই নেতার সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের পক্ষে সরকার গঠন করা কঠিন হবে। তবে এটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও দাবি।
ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, দুর্বল সরকার গঠিত হলে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে পারবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে হবে এবং দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি হলে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী নেতারা সেই দায়িত্ব পালনে সক্ষম নন বলেও দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান রোনেন বারের সঙ্গে বিরোধের বিষয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রোনেন বারকে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দেন তিনি। নেতানিয়াহুর দাবি, তিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছেন, যার কয়েকটি ইন্টারনেটেও পাওয়া যায়। এসব নথিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে সাক্ষাৎকারে দেওয়া তাঁর এসব বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে যেমন জয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি পরাজয়ের পরও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার দৃঢ় অবস্থান উঠে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে তাঁর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক প্রচার কতটা কার্যকর হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন