দেশজুড়ে আকাশপথে ভাড়া দ্রুত বাড়তে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, আগের তুলনায় এখন যাতায়াত ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। নিয়মিত যাত্রী শিক্ষক-গবেষক সৈয়দা বদরুন নেসা বলেন, আগে যে খরচে ঢাকা-রাজশাহী যাতায়াত করতেন, এখন সেই টাকায় এক দিকের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গৃহিণী লায়লা আরজুমান্দ হকও।
মূলত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণভাবে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানভাড়া বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে অভ্যন্তরীণ রুট যেমন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার ও সৈয়দপুরে ভাড়া বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটেও টিকিটের দাম অনেক বেড়ে গেছে।
এভিয়েশন খাতের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলো পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপের মুখে পড়েছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় ছাড়া ফ্লাইট চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। একটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জ্বালানির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প সময়ে ভাড়া সমন্বয় করতে হয়েছে, যা সাময়িক সমস্যা তৈরি করেছে। অন্যদিকে এভিয়েশন অপারেটরদের সংগঠনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভাড়া না বাড়ালে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে, তাই সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের ওপর কর ও ভ্যাট পুনর্বিবেচনা এবং নীতি সহায়তা না দিলে এভিয়েশন খাত আরও চাপের মুখে পড়বে। সব মিলিয়ে ভাড়া বৃদ্ধি ও ফ্লাইট কমে যাওয়ায় যাত্রীদের যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল ও সীমিত হয়ে উঠছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন