দেশে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন হিসাবে আগামী এক বছরে এই চার ধরনের জ্বালানি কিনতে গ্রাহকদের অতিরিক্ত প্রায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করে নতুন দর কার্যকর করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের মোট ব্যবহার কোটি কোটি লিটারে পৌঁছায়। পরিবহন, কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে ডিজেলের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন দামে এসব জ্বালানি কিনতে বছরে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৮৪ হাজার ৬৪৭ কোটি টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে এককভাবে ডিজেলেই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে। পরিবহন, কৃষি সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হওয়ায় ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পণ্য পরিবহন খরচ ও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও রাইড শেয়ারিং খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা মূলত শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ তৈরি করবে। কেরোসিনের দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যারা এখনো বিদ্যুৎ ও রান্নার কাজে কেরোসিনের ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ভাড়া, কৃষি উৎপাদন খরচ এবং শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন