ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেই স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারানোর পর শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, গ্যালারিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপুল উপস্থিতিও মুগ্ধ করেছে জাতীয় দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলিকে। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে জয় দিয়ে কোচ হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচেই সাফল্যের স্বাদ পান ডুলি। ম্যাচ শেষে তিনি সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো বাংলাদেশি খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়ায় তিনি অভিভূত।
ডুলির ভাষায়, প্রবাসী সমর্থকদের ভালোবাসা ও সমর্থনই ভবিষ্যতে ইউরোপে আরও বেশি ম্যাচ আয়োজনের চিন্তা করতে উৎসাহ দিচ্ছে। তিনি জানান, ইউরোপের অন্য দলগুলোর সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোচ বলেন, ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের জানানো হয়েছিল যে ইউরোপের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ শুধু তাদের খেলা দেখতে এসেছে। সেই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতেই দল মাঠে নেমেছিল এবং কাঙ্ক্ষিত ফলও পেয়েছে।
সান মারিনোর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গ্যালারির বড় অংশজুড়ে ছিল লাল-সবুজের সমর্থকদের উপস্থিতি। এতে খেলোয়াড়রাও অতিরিক্ত অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। বাংলাদেশে যোগ দেওয়ার পর দেশের মানুষের ফুটবলপ্রেম তাকে বিস্মিত করেছে বলেও জানান ডুলি। তিনি স্মরণ করেন, বিদেশ সফরে রওনা হওয়ার সময় বিমানবন্দরে বিপুলসংখ্যক সমর্থকের উপস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের ঘিরে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে অসাধারণ আবেগ রয়েছে। তারা দলের সাফল্য দেখতে চায় এবং সামান্য অর্জনেও ব্যাপক আনন্দ প্রকাশ করে। এই ভালোবাসাই খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়। একই সঙ্গে তিনি বাস্তবতাও তুলে ধরেন। বিশ্ব ফুটবলে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো শীর্ষ পর্যায়ে না থাকলেও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই সমর্থকদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। ঐতিহাসিক এই জয়ের মাধ্যমে নতুন কোচের অধীনে বাংলাদেশের ফুটবল নতুন আশার বার্তা পেয়েছে। আর প্রবাসী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের আরও বেশি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনাকেও জোরালো করে তুলেছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন