বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বা সেবা ফি আরোপের সম্ভাবনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। টোল বাধ্যতামূলক হবে নাকি স্বেচ্ছাধীন, আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য এবং প্রণালিটির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ—এসব প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইরানের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট সেবা ফি পরিশোধ করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, প্রণালিটি অবাধে উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এদিকে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ‘নেভিগেশন ফি’ বা নৌ চলাচল-সংক্রান্ত সেবার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে তাদের মতে, এ ধরনের অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক হওয়া যাবে না এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থার স্বীকৃত নীতিমালার আওতায় থাকতে হবে। ওমানও একতরফাভাবে টোল আরোপের পক্ষে নয়। দেশটি চায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সেবার বিনিময়ে স্বেচ্ছাধীন ফি আদায়ের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওমান সফর করেছেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সমুদ্র নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অর্থ আদায়ের বিষয়টির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাই এ ইস্যুতে দ্রুত সমাধান না এলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন