দেশে হাম রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষ করে হাসপাতালকেন্দ্রিক সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সাত মাস বয়সি নাহিদের মতো অনেক শিশু অন্য রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে হামে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুর মা শান্তা আক্তার জানান, তার সন্তানের ঠান্ডাজনিত সমস্যা দুই মাস বয়স থেকেই শুরু। একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে শিশুটিকে বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত পিআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একই পরিস্থিতির শিকার ছয় মাস বয়সি আবিদ, যার হার্টের সমস্যা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কিছুদিন পর সে হামে আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে আরেক শিশু আজানের ক্ষেত্রেও হাসপাতালে চিকিৎসার সময় শরীরে লাল র্যাশ দেখা দেয়, যা পরে হাম সংক্রমণ হিসেবে সন্দেহ করা হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি একাধিক শিশুকে সংক্রমিত করতে পারে। হাসপাতালে সঠিকভাবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর সাবেক পরিচালক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে হবে।
ঢাকার একটি শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, যেসব শিশু টিকা নেয়নি তাদের মধ্যে জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে যেসব শিশু টিকা নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোগ তুলনামূলক কম গুরুতর হচ্ছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি-এর আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের হাম টিকা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তিন সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। দেশজুড়ে লক্ষাধিক কেন্দ্রে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান ও সচেতনতা বৃদ্ধি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন