ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো দেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো সরকারপ্রধানের নির্বিঘ্নে হাঁটা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি হঠাৎ করেই ক্যাম্পাসে পায়ে হেঁটে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। সিনেট ভবন থেকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ পর্যন্ত পুরো পথ তিনি হেঁটে অতিক্রম করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় ক্যাম্পাসজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ; হাজারো শিক্ষার্থী করতালি, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে তাকে স্বাগত জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে—টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকায়—শিক্ষার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন পর এমন স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উপস্থিতি ক্যাম্পাসে এক ভিন্ন আবহ তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সালেহ শিবলী বলেন, “এটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেও বিরল ঘটনা। কোনো সরকারপ্রধানকে এভাবে নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে হাঁটতে দেখা যায়নি।” তিনি আরও জানান, অতীতে ক্যাম্পাসে সরকারপ্রধানদের আগমন ঘিরে উত্তেজনা, স্লোগান-পাল্টা স্লোগান কিংবা সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলেও এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক।
অনুষ্ঠানের আয়োজক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বিভিন্ন মতাদর্শের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকলেও সবার প্রতিক্রিয়া ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও ইতিবাচক, যা পুরো ঘটনাকে স্মরণীয় করে তুলেছে। ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবং নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “প্রায় ৩৫ বছর পর ক্যাম্পাসে ফিরে মনে হচ্ছে যেন আবার সেই পুরোনো দিনে ফিরে গেছি।”
ক্যাম্পাস সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। পুরো এলাকাজুড়ে তাদের ব্যানার, মিছিল ও স্লোগানে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং পুরো ক্যাম্পাসে নজরদারি জোরদার করা হয়।
সব মিলিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সফরকে অনেকে “অভূতপূর্ব ক্যাম্পাস অভিজ্ঞতা” হিসেবে বর্ণনা করছেন, যা দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন