আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফুটবলের নিয়মকানুনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল আইন প্রণয়নকারী সংস্থা। নতুন এসব নিয়ম আগামী মৌসুম থেকে কার্যকর হবে এবং বিশ্বকাপেও এর প্রয়োগ দেখা যাবে। ফুটবলকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও সময় অপচয়মুক্ত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে খেলোয়াড়দের আচরণ, বদলি প্রক্রিয়া, ভিডিও প্রযুক্তির ব্যবহার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধান উল্লেখযোগ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মাঠে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে খেলোয়াড় যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন, তাহলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। একইভাবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কেউ মাঠ ত্যাগ করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় নষ্ট কমাতে থ্রো-ইন ও গোল-কিক নেওয়ার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কাউন্টডাউন চালু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শুরু না করলে প্রতিপক্ষ দল সুবিধা পাবে। এতে ম্যাচের গতি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বদলি প্রক্রিয়াতেও এসেছে কঠোরতা। বদলির সংকেত দেওয়ার পর মাঠ ছাড়তে দেরি করলে নতুন খেলোয়াড়কে সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নামতে দেওয়া হবে না। ফলে ইচ্ছাকৃত সময়ক্ষেপণের সুযোগ কমে যাবে। মাঠে চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। কোনো খেলোয়াড় চিকিৎসা নিলে খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষক কিংবা বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
ভিডিও সহকারী রেফারির ক্ষমতাও আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত কিংবা কিছু নির্দিষ্ট ভুল সিদ্ধান্ত দ্রুত সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এছাড়া প্রতিটি অর্ধে পানীয় গ্রহণের জন্য নির্ধারিত বিরতি রাখা হবে। এতে বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সুবিধা হবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, গোলরক্ষকের চিকিৎসার সময় অন্য খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা করতে পারবেন না। এর ফলে চিকিৎসা বিরতিকে কৌশলগত সময় হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব নিয়ম খেলার গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন