ইরানে একাধিক দফায় জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার মরদেহবাহী কফিন ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে পৌঁছেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সেখানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং বৃহৎ পরিসরের শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরাকি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মরদেহবাহী কফিন গ্রহণ করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে জানাজা ও সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে শোকমিছিলের প্রস্তুতি শুরু হয়।
শিয়া মুসলিমদের কাছে নাজাফ অত্যন্ত পবিত্র একটি ধর্মীয় নগরী। এখানে হজরত আলী (রা.)-এর মাজার অবস্থিত হওয়ায় মরদেহ সেখানে নেওয়াকে ধর্মীয় ও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে কয়েক দফায় জানাজা, শোকসভা এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই মরদেহ নাজাফে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও নাজাফে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরাকের রাজনৈতিক নেতা, শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পরে মরদেহবাহী কফিন শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে এবং বুধবার বৃহৎ জনসমাগমের মধ্য দিয়ে শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা ও রাষ্ট্রীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
নিউজ ডেস্ক
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন